সমাবেশ থেকে ফেরার পথে নারীদের কাপড় ছিঁড়ে নিলো আওয়ামী লীগ কর্মীরা
তার পোস্ট এখানে তুলে ধরা হলঃ “শান্তিনগর মোড়ে এক ঘন্টা দাঁড়ায়ে থেকেও কোন বাস পাইলাম না। হেঁটে গেলাম বাংলামটর। বাংলামটর যাইতেই মিছিলের হাতে পড়লাম। প্রায় ১৫-২০ জন আমাকে ঘিরে দাড়াইলো। ব্যস! যা হওয়ার থাকে তাই। কলেজ ড্রেস পরা একটা মেয়েকে হ্যারাস করতেসে এটা কেউ কেউ ভিডিও করার চেষ্টা করতেসে। কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করতেসে। আমার কলেজ ড্রেসের বোতাম ছিঁড়ে গেসে । ওড়নার জায়গাটা খুলে ঝুলতেসে। ওরা আমাকে থাপড়াইসে। আমার শরীরে হাত দিসে। আমার দুইটা হাত এতগুলা হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাচাইতে পারে নাই। একটা পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং চক্রে ঢুকে আমাকে বের করে এন্ড একটা বাস থামায়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফ্লি আসছি। প্রচণ্ড শরীর ব্যথা ছাড়া আর কোন কাটাছেঁড়া নাই। মেন্টালি ভয়াবহ বিপর্যস্ত বাট শারীরিক ভাবে ভাল আছি। আমি এই শুয়োরদের দেশে থাকব না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে আমি থাকব না। থাকব না। থাকব না…
প্রসঙ্গ —যারা নিজের দেশ মাকে সম্মান করে না, তারা দেশের নারীদের কি সম্মান করবে। তারা রাজনীতির মানে বুঝে খালি রক্তপাত এবং ক্ষমতা। সত্যিকার অর্থেই তারা না দেশকে ভালোবাসে না দেশের মানুষকে। আর এরাই হবে এই দেশেরই ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদ তাহলে বোঝা যায় এ এদেশের আরও যে কি ভয়াবহ অবস্থা হবে।”
নারীদের ওপর আওয়ামী যৌন নির্যাতনের ওপর শামসুল আলম একজন যা লিখেছে, তা আংশিক এখানে উল্লেখ করিঃ অদিতি বৈরাগি শান্তিনগরে বাস না পেয়ে পায়ে হেটে বাংলা মোটরে গিয়ে বাস ধরতে যান। বাস পাওয়ার আগেই অদিতি পড়েন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানগামী মিছিলের হাতে। সেখানে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানধারীদের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হন অদিতি! ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ রাস্তাঘাটে যখন কড়া নিরাপত্তা, তখন ‘সোনার ছেলে’দের এই ঐতিহাসিক কর্মকান্ডে বিরক্ত হয়ে বাসায় গিয়ে ঘটনাটি ফেসবুকে পোস্ট করে অদিতি লিখেন- “আমি এই শুয়োরদের দেশে থাকব না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে, তাদের দেশে আমি থাকব না। থাকব না। থাকব না!”
অদিতির পোস্টটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এক ঘন্টায় ১২ হাজার লাইক, ৪ হাজার শেয়ার! তারপরে আসে চাপ, রাজনৈতিক ব্যবহার, অতঃপর নাম চেইঞ্জ করে পোস্ট হাইড করতে হয়। যা বলেছে অদিতি, শেষে কি সেটাই করতে হবে- দেশই হয়ত ছাড়তে হবে! খবরটি শুনে পড়ে অনেকের প্রশ্ন- তাহলে পাক মোটর থেকে বাংলা মোটর হয়ে এই উন্নতি!
৩ মার্চ শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা মিলি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সরকার দলীয় সেক্রেটারী ও নেত্রীদের নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান। মিলির বক্তব্য ছিলো……“রাজনীতি বুঝুক না বুঝুক, সেক্সনীতি বুঝলেই বাপের বয়সী সাধারণ সম্পাদকের কোলে বসে ফুরতি (ফূর্তি) করাটাই রাজনীতিতে পদবী পাওয়ার কাজ দেবে! শিক্ষিত না হলে দোষ নাই, একাধিক নেতা আর ব্যবসায়ীদের শারীরিক সুখ দিতে পারলেই পদবী পাওয়া যাবে! মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই চারটা রাজনৈতিক ভালো কথা বলতে না পারলেও হোটেলে গিয়ে বাচ্চাদের ভঙ্গিমায় প্রেমালাপ পারলেই রাজনীতি হবে! স্বামীর রোজগারে ঠিকমতো বাসাভাড়া আসবে না, কিন্তু জীবন-যাপনের স্টাইল লাখ টাকার বাজেটে করতে পারাটাই রাজনৈতিক স্বার্থকতা তাদের জন্য! বেশামাল শরীরে অশালীন পোষাকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সেইসব নোংরা ছবি তুলে ফেইজবুকে না নিয়ে এলে তাদের ফেইজবুক অচল হয়ে পড়ে! তাদের আপত্তিকর পোষাকে না দেখলে হয়ত, স্থানীয় বড়পদের বাপদের পেটের ভাত হজম হয় না! শারীরিক বেসামাল গড়ন আর অশালীনতা যেন তাদের দেহব্যবসার বিশেষ পণ্যবস্তু। নিজের সন্তানকে কাজের লোকের কাছে রেখে রাজনীতির নামে সারাদিন বেশ্যাবৃত্তি করাটাই তাদের কাজ! পরিবারে নেই কোন জবাবদিহি, তাই যাচ্ছেতাই করা যায়। তাছাড়া বড় বান্ডেল দেখলে আয়বিহীন পরিবারের বাপ-মায়ের চোখে অসৎ মেয়ের গোলাপী চরিত্র সকল অপরাধই ম্লান করে দেয়! জানতে ইচ্ছে করে যদিও তাদের বাপ-মা কি তবে বেশ্যা ছিলেন??? তবুও না জেনে বুঝার বাকি থাকেনা যে, বেশ্যা না থাকলেও নিজের মেয়ের বেশ্যাবৃত্তিকে রাজনীতির সার্টিফিকেট দিতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন মূর্খ, অশিক্ষিত আর অবুঝ বাপ-মা!! এটাই তাদের জীবন,,,,,,তারা এভাবেই চলে,,,,,,তারা এমনি,,,,,,কারণ??? খুব সহজ, স্থানীয় এমপি আর রাজনৈতিক বড় পদের মালিকদের সাথে তাদের গোলাপঝরা শখ্যতা! After all, তাদের ইয়াবা আর মাদক ব্যবসা এবং রাজনৈতিক পদ বেচে দেহব্যবসা সফল করতে ও সচল রাখতে এইসব পদবী আর বয়সে আব্বারা ই ত একমাত্র সহায়ক!” মিলির পোস্টটিও ফেসবুক এবং অনলাইন মিডিয়ায় ভাইরাল হয়! এরপরে চাপ আসতে থাকে মিলির ওপর। মিলি পোস্ট সংশোধন করে – “বাপের বয়সী সাধারণ সম্পাদকের কোলে বসে ফুরতি” বদল করে লিখেন, তিনি দলীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে কিছু লেখেনি, তিনি বলেছেন জেলার সাধারন সম্পাদককে নিয়ে! অবশ্য ওবায়দুল কাদেরর সাথে মিলির ছবি পোস্ট করা আছে। তবে এতেও শেষ রক্ষা হয়নি মিলির। অবশেষে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার দায়ে মিলিকে পার্টি থেকে বহিস্কার করেন মহিলা আওয়ামী লীগের জেলা সাধারন সম্পাদক মাহমুদা বেগম (যিনি নিজেও একজন মহিলা)! এখানেই শেষ নয়, মিলির নামে মামলা করার নির্দেশনাও গেছে। অবশ্য এর দু’দিন আগে থেকে ঢাকা শহরে চাউর হয়ে যায় ধানমান্ডি লেকের পাড়ে আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের রঙমহলের খবর। মিলির ওপর খড়গ নামার মধ্য দিয়ে কি এপিসোড ক্লোজ করার চেষ্টা করা হলো? দু’টো ঘটনায় মনে পড়ে যায় ১৯৯৫ সালের কথা, আমি তখন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার। হঠাৎ খবর এলো, দিনাজপুরে ইয়াসমিন নামে এক তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে শহর টালমাটাল। অভিযোগ – পুলিশ কতৃক লাঞ্চিত ও নিহত হয়েছিল মেয়েটি। এ নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামীলীগ ইস্যু তৈরি করে। সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি এবং দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবীতে থানা ঘেরাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হরতাল পালন করে। মারমূখী জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত হয় কয়েকজন। এমনকি সরকারের পতন দাবীতে দিনের পর দিন আন্দোলন করে আওয়ামীজোট। সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের মন্ত্রিদেরকেও শহরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। শেষে ঘটনার বিচারের আশ্বাস ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। অনেক পরে বিচারে ৩ পুলিশকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। সময় বদলেছে। দিনাজপুরের ইয়াসমিনের ঘটনায় পুলিশের ফাঁসি হয়েছে; কিন্তু এখন মিলি অদিতির ঘটনা ঘটছে নিত্য, তাও ঐতিহাসিক দিবসে! তবে এরা বিচার পায় না, উল্টো মামলা খায় বা দেশ ছাড়ার হুমকি পায়!
আমরা কি এগু
লাম?

