সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৮ সিদ্ধান্ত
মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিশ্রামাগার নির্মাণ, বাসের সৌন্দর্যবর্ধন, গতি নিয়ন্ত্রণসহ অন্তত ১৮টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদ। সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে গতকাল সচিবালয়ে পরিষদের ৪২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, পুলিশ কমিশনার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র, পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিষদ সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সিদ্ধান্তগুলো জানান। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়ক-মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও লেগুনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বাস-ট্রাকসহ গণপরিবহনের ইকোনমিক লাইফ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। জাতীয় মহাসড়কে লেগুনাজাতীয় ধীরগতির গাড়ি চলতে পারবে না। ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার খুচরা যন্ত্র আমদানি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হবে। অবৈধ যানবাহন ডাম্পিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হবে।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঢাকার রংচটা বাসের সৌন্দর্যবর্ধনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদ। এর বাইরে ঢাকার রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এছাড়া আঞ্চলিক রোড ট্রান্সপোর্ট কমিটির (আরটিসি) সভা নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইভাবে যেসব জেলায় আরটিসি নেই, সেসব জেলায় অতিসত্বর আরটিসি গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এর বাইরে বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের অবৈধ অ্যাঙ্গেল, হুক ও বাম্পার অপসারণের কাজ চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মহাসড়কে অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও হয়েছে সভায়। জাতীয় মহাসড়কে ইজিবাইক বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা কমিটিকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। পরিবহন খাতকে শিল্প হিসেবে প্রাপ্য সুবিধাদি নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব/অনুরোধপত্র পাঠানো হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগের অভিযান চলমান থাকবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীসপুর, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সড়ক বিশ্রামাগার স্থাপন করা হবে।
একইভাবে গাড়িতে অননুমোদিত মনোগ্রাম ও ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগানো যাবে না। মহাসড়কে যানবাহনের ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সভায় ডিএসসিসির মেয়রকে প্রধান করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্প্রতি তিনটি বড় দুর্ঘটনা মহাসড়কে ঘটেছে। সেখানে রোড ডিভাইডার ছিল। তবুও দুটি স্থানে লেগুনা ও একটি স্থানে অটোরিকশার সঙ্গে বাসের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৃথক সভা: এদিকে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব কার্যক্রম বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম সভা গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান।
সভায় ঈদুল আজহার আগে ও পরে ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক দুর্ঘটনা এবং সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়া, ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চলমান কার্যক্রম জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় রুট পারমিটবিহীন যানবাহন যাতে রাস্তায় চলাচল করতে না পারে এবং ট্রাফিক আইন সঠিকভাবে পরিপালন করা হয় তার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোকে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ট্রাফিক আইন মেনে চলায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সভায়।